পাখির চোখের ইনফেকশন এবং প্রদাহজনিত সমস্যার সঠিক এবং কার্যকর চিকিৎসা –


বিভিন্ন কারণে পাখির চোখে ইনফেকশন হতে পারে, যেমন  – আঘাতজনিত কারণে, জীবানু সংক্রমনে, নোংরা পরিবেশ এর কারণে, খাচার বিভিন্ন জিনিস পত্র মানসম্মত না হলে, খাচা অতিরিক্ত পুরানো বা জং ধরা হলে, পাখির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে। ইনফেকশন এবং প্রদাহজনিত সমস্যার উপসর্গ গুলো সারারণত – চোখ ফুলে যাওয়া, চোখ এর রং লালচে হয়ে যাওয়া, চোখ থেকে পানি পরা, চোখ থেকে রক্ত পরা, চোখ বেশিরভাগ সময় বন্ধ করে রাখা, চোখে ময়লা জমে থাকা – ইত্যাদি। এরকম দেখা গেলে দ্রুত চিকিত্সা শুরু করতে হবে কেননা এধরনের সমস্যায় সঠিক সময়ে সঠিক চিকিত্সা না করা হলে পাখি মারা যাওয়া তা খুব ই স্বাভাবিক। এধরনের সমস্যায় প্রাকৃতিক চিকিত্সা খুব ই কার্যকর তবে তা অবশ্যই সঠিক পদ্ধতিতে করতে হবে। মেডি সিনাল চিকিত্সা না করাই ভালো কেননা পাখির চোখ খুব ই স্পর্শকাতর এবং আমাদের দেশে পাখির চোখের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ & কার্যকর কোনো এভিয়ান মেডিসিন পাওয়া যায় না। ভেটেরিনারি আই-ড্রপ অথবা মানুষের আই-ড্রপ পাখির ক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় সাময়িক ভাবে কাজ করলেও এটা থেকে বিভিন্ন বিপদ হবার রিস্ক আছে, পরবর্তিতে সমস্যা ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে এবং পাখির চোখ নষ্ট হয়ে যাবার ও আশংকা আছে। নিম্নোক্ত চিকিত্সাবিধি অনুসরণ করলে পাখি অবশ্যই দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং কোনো রিস্ক ও থাকবে না –

১। এধরনের সমস্যা দেখা মাত্র প্রথমেই নিম পাতা সিদ্ধ পানি  দিয়ে পাখির চোখ হালকা করে ধুয়ে দিন, পানিতে হাত ভিজিয়ে একটু দূর থেকে হালকা করে পানিটা ছোখে ছিটিয়ে দিবেন (পাখির চোখে স্প্রে করা যাবে না।)। এভাবে দিনে ৩-৫ বার দিবেন। দিনের বেলা একটা পাত্রে গোসলের জন্য নিম পাতা সিদ্ধ পানি দিন, পাখি নিজে থেকে গোসল করলে এমনিতে চোখ ধুয়ে যাবে। আঘাতজনিত কারণে চোখে ইনফেকশন হলে নিম পাতা সিদ্ধ পানি ব্যবহারের পর হালকা করে এক টুকরা এত ভেরা জেল ক্ষতস্থানে লাগিয়ে দিন, দিনে ৩ বার লাগাবেন পর পর ৩ দিন।#নিমের দ্রবনঃ ১৫ টি দেশী নিম পাতা ভালো করে ধুয়ে ১ লিটার পরিমাণ ফুটন্ত গরম পানিতে ছেড়ে দিন। এর পরে পাত্রটি ঢাকনি দিয়ে ঢেকে ১৫-২০ মিনিট ধরেহালকা আঁচে সিদ্ধ করুন। পানির রঙ হালকা সবুজাভ বাদামী হলে পাত্রটি চুলা থেকে নামিয়ে ঢাকনা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় ঠাণ্ডা হতে দিন।

২। পাখি যেই খাচায় আছে, সেখান থেকে সরিয়ে খাঁচাটি ঘষে মেজে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে রোদ এ শুকান, এরপর পাখিকে সেই খাচায় রাখুন। খাচা যদি বেশি পুরানো বা জং ধরা হয় তাহলে খাচা অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে।

৩। খাঁচার পার্চ/ বসার লাঠি পরবর্তন করে তাজা নিম এর ডাল এর পার্চ করে দিন। নিম এর ডাল এ এন্টিসেপটিক প্রপার্টিস আছে, তাই পাখি এখানে যখন চোখ ঘষবে, খুব দ্রুত চোখের ইনফেকশন/ প্রদাহ সেরে যেতে শুরু করবে।

৪। পাখিকে তাজা নিম এর ডাল পাতাসহ খেতে দিন। এটি ভেতর থেকে জীবানু ধ্বংস করতে সাহায্য করবে।

৫। ইনফেকশন বেশি গুরুতর হলে, চোখ বেশি  ফুলে গিয়ে থাকলে, চোখ থেকে বেশি পানি পড়লে ব্র্যাগ আপেল সাই ডার ভিনেগার পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। এতে করে ভেতর থেকে ইনফেকশন দ্রুত শর্তে শুরু করবে এবং পাখির ইমিউন সিস্টেম ও শক্তিশালী হবে, ফলে জীবানু সংক্রমণ রোধ হবে।এই ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ব্যবহার বিধি অনুসরণ করুন –

# বাজরিগার, ফিঞ্চ, ডাভ ও অন্যান্য ছোট পাখি – ২৫০ মি.লি.  পানিতে ৫ মি.লি.  অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার, একটানা ৫ দিন।

# ইংলিশ বাজরিগার, ককাটেল, লাভবার্ড, কবুতর, টিয়া  ও অন্যান্য মাঝারি পাখি- ২৫০ মি.লি. পানিতে ১০ মি.লি.  অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার, একটানা ৫ দিন।

* সতর্কতা : অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার  প্রতিবার ব্যবহারের পূর্বে বোতলটি ঝাকিয়ে নিবেন এবং সুসংরক্ষণের জন্য নরমাল ফ্রিজে রাখুন। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ও পানির মিশ্রন ফ্রিজে রেখে পরবর্তিতে ব্যবহার করা যাবে না। অরিজিনাল বোতল এ রাখা সম্ভব না হলে অবশ্যই কাঁচের বোতল এ সংরক্ষণ করবেন । অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার অবশ্যই “BRAG” এর হতে হবে, নাহলে এই ক্ষেত্রে কোনো কাজ হবে না।

৬। প্রতিদিন কিছু সময়  পাখিকে রোদ এ রাখবেন –  গরম কালে ৫-১০ মিনিট এবং শীতকালে ৩০ মিনিট। এত পাখির যেকোনো জীবানু সক্রমন রোধে একান্ত প্রয়োজন।

৭। পাখিকে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়াবেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুন পরিমান সবুজ শাক সবজি  খাওয়াবেন। সবুজ শাকসব্জি চোখের  সু স্বাস্থ্য রক্ষায় অপরিহার্য।

৮। চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় পাখিকে সফট ফুড এবং এগ ফুড খাওয়াবেন না, অন্য কোনো মেডিসিন/ সাপ্লিমেন্ট দিবেন না।

৯। সমস্যা সম্পূর্ণ সেরে যাবার পর আরো ২ দিন নিম পাতা সিদ্ধ পানি দিয়ে দিনে ১ বার চোখ ধুয়ে দিবেন।

১০। উপরোক্ত চিকিত্সাবিধি মেনে চলার ৩-৫ দিনের মধ্যে সমস্যা কমে না গেলে অবশ্যই আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। সমস্যা অধিকতর গুরুতর হয়ে থাকলে বা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলতে থাকলে আমার থেকে কিছু স্পেশাল ট্রিটমেন্ট সাপ্লিমেন্ট সংগ্রহ করার প্রয়োজন হতে পারে, যদিও এধরনের পরিস্থিতি খুব কম ক্ষেত্রেই ঘটে।